April 19, 2026, 1:04 pm

কাজ শুরুর আগেই ইট বিক্রি করল চেয়ারম্যান,

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের ইকড়া গ্রামে সরকারি রাস্তাার পুরাতন ইট বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা আবু বকর ও হাফিজুর রহমান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিক্রিত ইট উদ্ধার করেছে। গ্রামবাসির অভিযোগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর ও তার সহযোগী হাফিজুর রহমান নতুন রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার আগেই রাস্তার পুরাতন ইট ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন ইকড়া গ্রামের জনৈক খলিলুর রহমানের কাছে। বিষয়টি নিয়ে কুশনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, ইকড়া গ্রামে নতুন মসজিদ সংলগ্ন একটি রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। ৩৫০ ফিটের এই প্রকল্পের বরাদ্দ দেড় লাখ টাকা। কিন্তু রাস্তাটি মসজিদ পর্যন্ত না হওয়ায় গ্রামের মানুষ আমাকে বলে ২০ ফিট বাড়িয়ে মসজিদ পর্যন্ত করে দিতে। তখন চেয়ারম্যান তাদের বলেন তোমরা বালি ম্যানেজ করে দিলে আমি ইট কিনে দিচ্ছি। তখন মুসল্লিরা এই পুরাতন ইট তুলে খলিলুর রহমান নামের একজনের কাছে বিক্রি করে দেন ৮ হাজার টাকায়। চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামে রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে এক প সাংবাদিকদের কাছে অবিযোগ দিয়ে বিষয়টি ফেসবুকে দিয়ে ভাইরাল করে। ইট বিক্রয়ের সংবাদ পেয়ে সোমবারই এই ইট উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যান। এদিকে গ্রামবাসীর অভিযোগ, রাস্তা বাড়ানোর জন্য নয়, ইট বিক্রি করে আত্মসাৎ করার জন্যই আবু বকর ও হাফিজ চেষ্টা চালায়। এখন তাদের বাচানোর জন্য চেয়ারম্যান নানা ফন্দি করছেন। গ্রামবাসি জানায় রাস্তার বহু ইট বিক্রি করা হলেও উদ্ধার দেখানো হয়েছে কম। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছেন। সেই ইট প্রশাসনের লেঅকজন আসার আগেই সরিয়ে ফেলেছে। এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি এলজিইডির হলেও কাজটি আমরা করছি না। তাই এ বিষয়ে বলতে পারবো না।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা